যে অদ্ভুত তত্ত্বে লেগস্পিনার আমিনুল উপেক্ষিত! – News Vibe24

DesheBideshe

ঢাকা, ২০ নভেম্বর – ক্রিজে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকা মানে বাঁহাতি বোলারদের আনা যাবে না; বাংলাদেশের অধিনায়করা এই এক অলিখিত নিয়মের মধ্যে যেন ঘুরপাক খাচ্ছেন। সেটা যে ম্যাচেই হোক কিংবা যে কোনো পরিস্থিতিতে, অধিনায়করা সেটি মানবেনই। সেই বৃত্ত থেকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বের হতে পারছেন না। বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতির পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে একই পথে হাঁটলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

না হয় আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের মতো বোলারকে কেন ব্যবহার করবেন না? পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে বোলিং না দিয়ে এনেছেন একদম শেষ ওভারে। যখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ২ রান।

একাদশে মূলত বোলার হিসেবেই জায়গা পেয়েছেন আমিনুল। কিন্তু মাত্র দুটি বল করার সুযোগ মিললো তার। কেন বিপ্লবকে বোলিংয়ে আনা হয়নি? ম্যাচ শেষে এমন প্রশ্ন অধিনায়কের কাছে ছুটে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই হয়েছে।

মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল বোলিং করানোর। দুজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকার কারণে আমাকে বোলিং করতে হয়।’

এতোদিন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বাঁহাতি বোলারের তত্ত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার মাহমুদউল্লাহ জানালেন, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে লেগ স্পিনারের তত্ত্ব।

পাকিস্তান পাওয়ার প্লে-তে ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। এরপর হাল ধরেন ফখর জামান ও খুশদিল শাহ। এই দুই বাঁহাতির জুটি থেকে আসে ৫৬ রান। তাতেই ম্যাচে ফিরে আসে পাকিস্তান। খুশদিল-ফখররা আউট হলেও বোলিংয়ে আনেননি বিপ্লবকে। কারণ, ক্রিজে এসেছিলেন আরেক বাঁহাতি মোহাম্মদ নাওয়াজ। শাদাব খানের সঙ্গে ১৫ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাতেই জিতে যায় পাকিস্তান।

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে গেলেই পাওয়া যাবে এমন দৃশ্য। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। টার্গেটে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা দারুণ শুরু করলেও সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাতে লাল সবুজের দল ম্যাচে ফিরে। এরপর খেলার হাল ধরেন দুই বাঁহাতি চারিথ আসাঙ্কা-ভানুকা রাজাপাকসে। সাকিবকেও বিশ্রামে পাঠান মাহমুদউল্লাহ।

বাঁহাতি স্পিনার আবার বোলিংয়ে আসেন ১৭তম ওভারে। ততক্ষণে ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে। প্রথম দুই ওভারে ৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া সাকিব এই ওভারে দেন ১১ রান। শেষ পর্যন্ত তার একটি ওভার বাকি ছিল। রাজাপাকসে-আসালাঙ্কা ৫২ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। সেদিনও ম্যাচ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের দোহাই দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে। বিপ্লব বোলিং করেননি, তার জায়গায় পঞ্চম বোলার হিসেবে মাহমুদউল্লাহ নিজে হাত ঘুরিয়েছেন। তিনি তিন ওভারে ১৯ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান করে। টার্গেটে খেলতে নেমে ৪ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
এমন ম্যাচে একাদশে থাকার পরও একজন লেগ স্পিনারের বোলিং না পাওয়াটা হতাশজনক। শেষ ওভারে তাকে বোলিংয়ে এনে মাহমুদউল্লাহ কি প্রমাণ করতে চাইলেন সেটাই বোধগম্য হলো না। উল্টো আমিনুলের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরালেন।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও খোলসে আটকা। কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ তার অধিনায়কত্ব। মাঠ, ম্যাচের পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ বিবেচনা করেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় না। বৃত্তের বাইরে গিয়ে কিছু চিন্তা করতে পারেন না। পারেন না বলেই সাফল্য ধরা দেয় না তার হাতের মুঠোয়। এমন ‘অন্ধ সংস্কৃতি’ থেকে মাহমুদউল্লাহরা কবে বেরোবেন?

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২০ নভেম্বর

(function(d, s, id){
var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0];
if (d.getElementById(id)) return;
js = d.createElement(s); js.id = id;
js.src = “https://connect.facebook.net/bn_BD/sdk.js#xfbml=1&version=v3.2”;
fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs);
}(document, ‘script’, ‘facebook-jssdk’));