দ্বিতীয় বিয়ে মানেই কি বিড়ম্বনা? – News Vibe24

দ্বিতীয় বিয়ে মানেই কি বিড়ম্বনা? - DesheBideshe

নন্দিতার (ছদ্মনাম) কিছুদিন থেকেই বিয়ে নিয়ে তুমুল কথাবার্তা চলছে। তাকে বিভিন্নভাবে চাপও দিচ্ছে পরিবার। কিন্তু এই সময়ে বিয়ে করাটা, নতুন আরেকটি মানুষ, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কীভাবে সামলাবে জানেনা। আগের বিভীষিকাটি সে এখনো ভুলতে পারেনি, নতুন কাউকে বিশ্বাস করা কষ্টকর তো বটেই। কারণ তার ডিভোর্স হয়েছে দুইবছর হতে চললো। আবার আরেকটি বিয়ে, সম্পর্ক নিয়ে ভাবা বেশ কঠিন নন্দিতার জন্য।

কিন্তু ডিভোর্স মানেই তো সব শেষ না। নতুন করে শুরুর বার্তাও হতে পারে। দ্বিতীয় বিয়ে দিয়েই যেকোনো পুরুষ বা নারী উভয়ই আগের ভুল-ভ্রান্তিগুলো এড়িয়ে একটা টেকসই সম্পর্ক গড়তে আরেকবার সুযোগ পেতে পারে। প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর যে দ্বিতীয় বিয়ে আর বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন করে আবার বিয়ে করার বিষয়টি ভিন্ন। বিচ্ছেদের পর নতুন করে কীভাবে শুরু করা যেতে পারে তা নিয়ে থাকছে আজকের আয়োজন-

নতুন করে শুরু করা সম্ভব

আপনার প্রথম দাম্পত্য জীবনে হয়ত অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে, সেটা থাকবেই। কিন্তু সেটাকে মাথার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখলে কি চলবে? পূর্ণবয়সে এসে আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে বাস্তবপ্রবণ হতে হবে। এটাকে জীবনের শিক্ষা হিসেবেই গ্রহণ করুন। আপনার পুরনো অতীতকে তো মুছে ফেলা সহজ সম্ভব না। তাই সেটাকে পাশে রেখে দ্বিতীয় সম্পর্কের, দ্বিতীয় জীবনের শুরু করুন।

নিজেকেও বদলাতে চেষ্টা করুন

বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ সঙ্গীর নিপীড়ন-নির্যাতন, হোক সেটা মানসিক বা শারীরিক। অনেকেই অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অনেকেই বিচ্ছেদের ধকল থেকে বের হতে পারেন না। তাই দ্বিতীয় সম্পর্কে জড়ানোর পরেও পুরনো বিভীষিকা পিছু ছাড়তে চায় না। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনাকে পুরোটা জানে, বোঝে এমন কাছের কারো সাহায্য নিতে পারেন, কাউন্সেলিংও করাতে পারেন।

নিজের মন খুলে সব বলুন

অনেক সময়ে আবার বিয়েতে ইচ্ছে থাকে না। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে করে নিতে হয় পারিবারিক ও সামাজিক চাপে। আগে দরকার মানসিক প্রস্তুতি। অনেকে প্রস্তুত না হয়েই দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি হতে হয়। আপনার পরিবার চাইবে আপনার জীবনে কেউ আসুক, সুখী হন। কিন্তু আপনার মনের ভেতরে তো ভয় যে দ্বিতীয় বিয়ের পরিণতিও যদি আগেরবারের মতো হয়? এজন্য আগে থেকে দুজনের মধ্যে আবেগ অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেওয়া দরকার। মানসিক অন্তরঙ্গতা হলে আপনি নতুন মানুষটাকে ভরসা করতে পারবেন। নিজের অবস্থানটা শক্ত করতে পারবেন। মানসিক দুর্বলতা কমায়।

সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না

আমরা কখনোই নিজেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারি না, পাশাপাশি কাউকে সন্তুষ্ট করাও সম্ভব না। আপনার নিজের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, নতুন শ্বশুরবাড়ির লোকজন- এরা কেউই আপনাকে নিয়ে পুরোটা সন্তুষ্ট হতে পারবে না। যতটুক সম্ভব সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন, সেটা অবশ্যই জোর করে নয়। আপনি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে না পারলেও সেটা নিয়ে মন খারাপ করবেন না।

সমান ভাগাভাগি

দ্বিতীয় বিয়ের দায়ভার তো শুধু আপনার একার নয়। যাকে বিয়ে করছেন সে দায়িত্ব তো তাকেও নিতে হতে হবে। সব দায়িত্ব দুজনে বহন করুন। মনে রাখবেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুজনের বোঝাপড়াটা খুব জরুরি। তবে সব প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে গিয়ে সঙ্গীর সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাই আপনাকে পূরণ করতে হবে,  এটা করবেন না। এতে দাম্পত্য জীবন ভারসাম্য চলে যাবে।

নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন

নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে নতুন লক্ষ্য ঠিক করাও জরুরি। বিবাহিত জীবন নিয়ে সবারই মধুর স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা থাকে। তবে বিভিন্ন কারণে প্রথম সম্পর্কটা হয়ত এলোমেলো হয়ে যায়। দ্বিতীয় সম্পর্কের শুরুতেই আপনাদের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য ঠিক করে নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন আপনি নতুন করে শুরু করতে চান। সুখী দাম্পত্যের জন্য দুজনে মিলে নিজেদের ভবিষ্যৎ গুছান একসঙ্গে।

এম ইউ

(function(d, s, id){
var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0];
if (d.getElementById(id)) return;
js = d.createElement(s); js.id = id;
js.src = “https://connect.facebook.net/bn_BD/sdk.js#xfbml=1&version=v3.2”;
fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs);
}(document, ‘script’, ‘facebook-jssdk’));